তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে বাজারে অস্থিরতা

৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ , ৩০ মার্চ ২০২৬
তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে বাজারে অস্থিরতা

সীমান্ত টিভি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়, আর শেয়ারবাজারে নেমে আসে বড় ধস।

বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম প্রায় ৩.৫ শতাংশ বেড়ে ১০৩ ডলারে পৌঁছেছে। এতে করে ব্রেন্ট তেল ইতিহাসের অন্যতম বড় মাসিক লাভের পথে এগোচ্ছে।

অন্যদিকে, এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে বড় পতন দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ৪.৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৪ শতাংশ কমেছে। এই পতনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা।

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এই হুমকির ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে এই রুট ঝুঁকির মুখে পড়লে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

এছাড়া বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হামলা চালাতে পারে। যদি এমনটা ঘটে, তাহলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের আরও প্রায় ১০ শতাংশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ব্রেন্ট তেলের দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার, যা মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়—২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।

এদিকে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে রাজনৈতিক ও সামরিক হুমকি-পাল্টা হুমকি। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ইরানের তেল স্থাপনা দখলের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন এবং ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা সতর্কতা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, শেয়ারবাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
সূত্র : বিবিসি

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর