• জাতীয়
  • বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার খেলেন প্রধানমন্ত্রী

বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার খেলেন প্রধানমন্ত্রী

৫:৪২ পূর্বাহ্ণ , ২১ এপ্রিল ২০২৬
বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার খেলেন প্রধানমন্ত্রী

সীমান্ত টিভি নিউজ ডেস্ক: পৈতৃক জেলা বগুড়ায় সফর ঘিরে দিনটি ছিল প্রাণবন্ত আয়োজন ও স্থানীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় ভরপুর। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে সেখানে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সার্কিট হাউজে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

স্থানীয় ঐতিহ্য ও স্বাদের সমন্বয়ে সাজানো এ ভোজে পরিবেশিত হয় বগুড়ার বিশেষ কিছু খাবার। জেলা প্রশাসনের এনডিসি রশিদুল ইসলাম জানান, ঢাকা পর্যটন মোটেলের বাবুর্চি লিয়াকত আলীর তত্ত্বাবধানে প্রস্তুত মেন্যুতে ছিল নাজিরশাল চালের ভাত, পাবদা ও শিং মাছের দো-পেঁয়াজা, পাতাসি মাছের চচ্চড়ি এবং দেশি মুরগির পদ।

খাবারের শেষ পর্বে পরিবেশিত হয় বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী আলু ঘাটি এবং সাদা ও মিষ্টি দই, যা অতিথিদেরও বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী এসব স্থানীয় খাবারের স্বাদ গ্রহণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তৃপ্তির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ সম্পন্ন করেন।

এর আগে গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তার বক্তব্যে ছিল সহজ-সরল ভঙ্গি ও হাস্যরস, যা মুহূর্তেই জনসভাকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে দর্শকসারিতে হালকা হইচই শুরু হলে তিনি মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলেন, ‘এই ভাই, চুপ করতে হবে। না হলে তোরা বক্তব্য দে, আমি যাই।’ তার এমন মন্তব্যে হাসির রোল পড়ে সভাস্থলে।

পরবর্তী সময় ঘরোয়া সুরে তিনি বলেন, ‘খিদে পেয়েছে আমার।

বাপের বাড়ি এসেছি, খেতে দেবেন না? আমি এখনো খাইনি, নামাজও হয়নি। সামনে আরো জনসভা আছে, অন্য প্রোগ্রাম আছে। তারপর আবার ঢাকায় ফিরতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর এমন আন্তরিক ও স্বতঃস্ফূর্ত মন্তব্যে উপস্থিত জনতা করতালির মাধ্যমে সাড়া দেন। অনেকেই তার এই সহজ আচরণকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পাশে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান। স্বামীর বক্তব্যে হাস্যরস উপভোগ করতে দেখা যায় তাকে। মঞ্চে উপস্থিত অন্য অতিথিদের মধ্যেও এসময় প্রফুল্ল পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।

বক্তব্য চলাকালে দর্শকসারি থেকে এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীকে দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানালে জবাবে তিনি হেসে বলেন, ‘সেটা সম্ভব না। আমি আবার আসব।’

অনুষ্ঠান শেষে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে স্থানীয় দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী কর্মসূচির উদ্দেশে বগুড়া ত্যাগ করেন।

 

মন্তব্য লিখুন