• জাতীয়
  • উৎসবের আমেজে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

উৎসবের আমেজে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

৫:৪০ পূর্বাহ্ণ , ১৪ এপ্রিল ২০২৬
উৎসবের আমেজে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

সীমান্ত টিভি নিউজ ডেস্ক: উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনের অন্যতম প্রধান আয়োজন বৈশাখী শোভাযাত্রা। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

চারুকলা অনুষদ থেকে যাত্রা শুরু করে শোভাযাত্রাটি শাহবাগ, দোয়েল চত্বর ও বেগম রোকেয়া হল এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে আবার চারুকলা প্রাঙ্গণে এসে সমাপ্ত হয়। এতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য সায়মা হক বিদিশা, ড. আব্দুস সালামসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কূটনীতিক ও সাধারণ মানুষ।

ইউনেস্কো স্বীকৃত এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ঘিরে সকাল থেকেই চারুকলা এলাকায় মানুষের ঢল নামে। অনেকেই সাদা-লাল পোশাকে সেজে অংশ নেন শোভাযাত্রায়, যা বাঙালির সংস্কৃতির চিরায়ত রূপকে ফুটিয়ে তোলে।

শোভাযাত্রার শুরুতে মহানগর পুলিশের ১০টি ঘোড়সওয়ার দল শোভা বাড়ায়। তাদের পেছনে জাতীয় পতাকা হাতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর একটি দল অংশ নেয়। এরপর মূল ব্যানার নিয়ে শিক্ষক, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা শোভাযাত্রায় যোগ দেন।

এবারের শোভাযাত্রার প্রধান আকর্ষণ ছিল বড় আকারের পাঁচটি মোটিফ—মোরগ, বেহালা, শান্তির পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। পাশাপাশি প্রায় ৪০ জন শিল্পীর বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনা এবং ১৫০ ফুট দীর্ঘ পটচিত্রের স্ক্রল শোভাযাত্রায় ভিন্নমাত্রা যোগ করে। দেশের ১০টি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ আয়োজনটিকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল রঙিন মুখোশ, প্রতীকী মোটিফ এবং লোকজ ঐতিহ্যের নানা উপস্থাপন।

এবারের শোভাযাত্রায় গ্রামীণ জীবন, প্রকৃতি, বৈচিত্র্যময় জাতিসত্তা ও সম্প্রীতির বার্তা শিল্পকর্মের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে পাহাড়ি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ আয়োজনটিকে নতুন মাত্রা দেয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারুকলা এলাকা ও আশপাশে নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরাও দায়িত্ব পালন করেন।

প্রতিবছরের মতো এবারও বৈশাখী শোভাযাত্রা বাঙালির ঐতিহ্য, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর