• জাতীয়
  • সংসদে হাসিনার শাসনামলের গণহত্যা ও অপশাসনের বিবরণ তুলে ধরবেন রাষ্ট্রপতি

সংসদে হাসিনার শাসনামলের গণহত্যা ও অপশাসনের বিবরণ তুলে ধরবেন রাষ্ট্রপতি

৫:২৯ পূর্বাহ্ণ , ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংসদে হাসিনার শাসনামলের গণহত্যা ও অপশাসনের বিবরণ তুলে ধরবেন রাষ্ট্রপতি

সীমান্ত টিভি নিউজ ডেস্ক: আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। অধিবেশনের সূচনাতেই সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবারের ভাষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামল ঘিরে দুর্নীতি, অনিয়ম, অপশাসন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নানা অভিযোগ গুরুত্ব পাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সূত্র অনুযায়ী, ভাষণে ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর দমন-পীড়ন, গুম-খুন এবং তথাকথিত ‘আয়নাঘর’-এর মতো অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত অগ্রাধিকার ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারগুলোর প্রতিফলনও থাকবে।

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন এবং প্রতিবছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া বাধ্যতামূলক। ভাষণের পর সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় এবং এ বিষয়ে আলোচনা শেষে অধিবেশনের শেষ দিনে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। তবে রাষ্ট্রপতি নিজে বা তাঁর দপ্তর সরাসরি এই ভাষণ প্রণয়ন করেন না। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ভাষণের খসড়া তৈরি করে, যা পরে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের রিপোর্ট শাখার এক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে এবং বর্তমানে তা যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য এটি উপস্থাপন করা হবে। জানা গেছে, এবারের ভাষণ প্রায় দেড়শ পৃষ্ঠার হতে পারে। তবে সংসদে রাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণ ভাষণ পাঠ না করে মূল ও সারসংক্ষেপ অংশ পাঠ করবেন। বাকি অংশ স্পিকারের অনুমতিক্রমে পঠিত বলে গণ্য হবে।

সূত্র জানায়, নতুন সংসদের এই ভাষণের প্রস্তুতি অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েই এর প্রাথমিক খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ একটি বিস্তৃত দলিল, যেখানে সরকারের নীতি, কর্মসূচি ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।

এবারের ভাষণে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ভোটারবিহীন ও প্রহসনের নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনার ক্ষমতায় থাকার ধারাবাহিকতা ব্যাখ্যা করা হবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এবং গণতন্ত্র সংকুচিত হওয়ার চিত্রও উঠে আসবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ৫ আগস্ট সরকারের পতন এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ঘটনাপ্রবাহও ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “১২ মার্চ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে এটুকুই জানি। এর বেশি মন্তব্য করতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। একইভাবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামানও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য দেননি।

উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের ব্যাপক প্রশংসা করা হয়েছিল। সে সময় নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম ভাষণে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাবে যেখানে শেখ হাসিনার শাসনামলের মানবতাবিরোধী অপরাধ, অপশাসন ও গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগই প্রাধান্য পাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর